মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাঘায় হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

এম ইসলাম দিলদার, বাঘাঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ১৫ই জুলাই বুধবার শত শত মানুষের সমাগমে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মনগড়া কমিটির সদস্য বৃদ্ধির অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক আবু সাইদ দশম শ্রেণির ছাত্রের বড় ভাই আবু তালিব বলেন,অভিভাবক কমিটি গঠন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোকাররম হোসেন বলেন,প্রধান শিক্ষক শাহ আলম (খোকন) প্রস্তুতি কমিটির ব্যাপারে কারো সাথে পরামর্শ না করেই নিচ্ছেন অভিভাবক সদস্য।এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। পুরোপুরি অবৈধভাবে তিনি কমিটি গঠন করার চেষ্টা করছেন।
অভিভাবক বেলাল বলেন, প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে স্কুলের সাবেক সভাপতি হাজী মনসুর পীর অর্থের বিনিময়ে পুনরায় সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করছেন।কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, হাজী মনসুর পীরের ছোট ছেলেকে স্কুলে নিয়োগ দেয়া। এছাড়াও বিগত সময়ে তিনি সভাপতি থাকা অবস্থায় তার দুই ছেলে এবং জামাতাকে স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধা আনছার আলী বলেন,বিদ্যালয়টি যেন সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়।সেখানে কোন অন্যায় এবং দূর্নীতি যেন না থাকে।সামনাসামনি বসে সুষ্ঠ সমাধান করতে হবে।
সদ্য বিদায়ী হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নওশাদ আলী বলেন,প্রধান শিক্ষক বর্তমানে অবৈধভাবে নিজের ইচ্ছামতোই চালাচ্ছেন সকল কার্যক্রম।নওশাদ আলী আরো জানান,প্রধান শিক্ষক খোকন আলী বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য হাজী মুনছুর আলী পীর আমার মামাকে বিদ্যালয়টির সভাপতি করার জন্যে নিয়ম বর্হিভূত অভিভাবক কমিটি করার চেষ্টা করছে।আমার মামা মুনছুর আলী একজন জামায়াত নেতা ছিলেন,এখনো মুনছুর মামা বিভিন্ন সময় গোপনভাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তা করে চলেছে।আমার কথা যদি মিথ্যা হয় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে।আমি সভাপতি থাকাকালীন এপর্যন্ত ৯৪০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে উপবৃত্তি দিয়ে আসছি। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত যথাক্রমে ৫০০০,৩০০০,২০০০,১০০০ টাকা করে উপবৃত্তি দিয়েছি।
এবিষয়ে হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম খোকনকে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন,অভিভাবক কমিটির বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।তবে পূর্বের সভাপতি নওশাদ আলীর কার্যক্রমে আমরা খুশি।
আরও একজন ইউপি সদস্য বাবু আলী বলেন,প্রধান শিক্ষক গোপনীয় ভাবে এ্যাডহোক কমিটি গঠনে করছে লোকমুখে শুনছি।

এই বিভাগের আরো খবর