ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজে ছেয়ে গেছে। চারদিকে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সাজানো প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণার ধরন কিছুটা ভিন্ন—পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন প্রচারণা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে অলিগলিতে চোখে পড়ছে প্রার্থীদের প্রচারসামগ্রী। এবার দেয়াল বা গাছে পোস্টার লাগানো বা পেরেক মারা প্রথা বাদ দিয়ে কাপড়ের ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনী লিফলেট হাতে হাতে বিতরণ করা হচ্ছে।
বাগমারা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা নারীর তুলনায় বেশি। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী—ধানের শীষ প্রতীকে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. আব্দুল বারী, নাঙ্গল প্রতীকে ফজলুল হক এবং হাতপাখা প্রতীকে তাজুল ইসলাম।
উপজেলায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়লেও হাতে হাত দেখা যাচ্ছে নাঙ্গল ও হাতপাখার প্রচারণাও। এই ভিন্ন আঙ্গিকের প্রচারণা দেখে ভোটাররা সন্তুষ্ট।
ভোটাররা বলছেন, “আগে নির্বাচন এলেই দেয়াল, দোকান ও গাছ নষ্ট হয়ে যেত। এবার সব কিছু পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে, এটা খুব ভালো লাগছে।”
এক তরুণ ভোটার সোহেল রানা যোগ করেন, “কাপড়ের ব্যানার ও লিফলেট ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতি কম হচ্ছে। এই ধারা থাকলে ভবিষ্যতের নির্বাচন আরও সুন্দর হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও নতুন প্রচারণার পদ্ধতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পোস্টার না থাকায় দোকানের দেয়াল নোংরা হচ্ছে না, ব্যবসায়িক ক্ষতিও কম হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বাগমারায় এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক উত্তাপ নয়, বরং পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রচারণার দৃষ্টান্ত হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, মানুষ ততই আগ্রহ ও উত্তেজনার সঙ্গে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।