রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাব-রেজিষ্ট্রি (ভূমি) অফিসের সামনের জায়গাটি জোড়পূর্বক দখল করাসহ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে উক্ত সমিতির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনের কাছে চাওয়া হয়েছে চাঁদা। দেয়া হয়েছে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি। তারই প্রেক্ষিতে গোদাগাড়ি দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক দশজনকে অভিযুক্ত করে গোদাগাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, শ্রীমন্তপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান মিলন (৫০), মোঃ রানা (৩২), নাফিউল ইসলাম নাহিদ (৪০), আব্দুস সালাম (৪৮), মোমিনুল ইসলাম রওনক (৪৪), সেলিম রেজা (৪৫), ফরহাদ বাদশা (৩৩), মোঃ মাসুদ রানা ট্যারা (৪৫), মোঃ মামুন (৩৩), মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সেলিম (৪৫)।
সরকারি জমি দখল ও দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক কমিটির কাছে চাঁদা দাবি ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে আশঙ্কায় গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টা থেকে বেলা ৩:৩০ মিনিট পর্যন্ত গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে অবস্থান করেন।
থানার জিডি ও ভুক্তভোগীদের দেয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী কমিটির কাছ থেকে অভিযুক্তরা যে পন্থায় অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতো; ঠিক একই পন্থায় বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির কাছেও চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে না পারলে বর্তশান আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে পূর্ববর্তী কমিটিকে আবারো চেয়ারে বসানো হবে বলে হুমকি দেয়। নয় সদস্য বিশিষ্ট বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হলেন গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে আছেন সাবিয়ার রহমান মিলন। পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম, সম্পাদক ও সাংগঠণিক সম্পাদক ছিলেন পর্যায়ক্রমে রফিকুল ইসলাম ভাদল ও সোহেল রানা। অভিযুক্তদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তিরাই কোন রাজনীতি না করলেও বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ দলিল লেখক সমিতির। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি’২০২৬ ইং তারিখে উপরোক্ত বিবাদীরা গোদাগাড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে সরকারী ফাঁকা জায়গা দখলের জন্য পায়তারা শুরু করে। রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনের দেয়াল ঘেঁষে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফাঁকা জায়গাটি দখলপূর্বক সেখানে একটি চেম্বার ও রেস্টুরেন্ট করার অপচেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা। উক্তস্থানে কোন চেম্বার ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করলে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে আসা সেবাগ্রহীতার পড়তে পারেন নানাজটিলতায়। এছাড়াও দালালদের চক্ররে পরারও সম্ভাবনা আছে। তাই সার্বিকদিক বিবেচনায় বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অভিযুক্তদের সেই অপচেষ্টাকে প্রতিহত করেন। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকিসহ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকলের সামনেই উক্ত সরকারি জায়গাটি দখল করবে বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। তারই প্রেক্ষিতে বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে পাহারায় বসেন। পুলিশের উপস্থিতির কারণে অফিযুক্তরা সেখানে না গেলেও আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ দেখে নেবার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনসহ কমিটির সদস্যরা।
অভিযুক্তদের চাঁদাদাবি, জমি দখলের পাঢ়তারা আর প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকির জন্য ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা। অভিযুক্তদের এমন এহেন কর্মকান্ড সংক্রান্ত বিষয়াবলী ঐ আসনের সাংসদ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অবগত আছেন বলে জানান আহ্বায়ক গিয়াস। তিনি আরো জানান, পূর্ববর্তী সমিতির নেতা ও সদস্যরা প্রতিটি দলিলে তিন থেকে চারশ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ নিতো। প্রতিমাসে প্রায় হাজারখানেক দলিলের রেজিষ্ট্রি কাজ সম্পন্ন হতো। পূর্ববর্তীরা অনেককেই নিঢ়মিত চাঁদা দিয়ে এই অবৈধ উপার্জন করতো। নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠণের পর সেই অবৈধ উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওযায় অসাধুচক্র সেটি মেনে নিতে পারছেনা। তাই অভিযুক্তরা আমাদেরকে কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়ে পূর্ববর্তী কমিটির লোকজনকে পুণরায় এখানে আনতে চাচ্ছে।
জানতে চাইলে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ হাসান বাসির লিখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এসিল্যান্ড স্যারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তাদের সাথে আলাপপূর্বক বিবদমান বিষয়গুলোর একটি সমাধানের চেষ্টা করছি। জায়গাটি রোডস্ এন্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্টের। তাই কেউ চাইলেও সেটি দখল করা সম্ভবনা।
Hide quoted text
গোদাগাড়ী দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ককে চাঁদার দাবিতে হুমকি ও জমি দখলের অপচেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাব-রেজিষ্ট্রি (ভূমি) অফিসের সামনের জায়গাটি জোড়পূর্বক দখল করাসহ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে উক্ত সমিতির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনের কাছে চাওয়া হয়েছে চাঁদা। দেয়া হয়েছে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি। তারই প্রেক্ষিতে গোদাগাড়ি দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক দশজনকে অভিযুক্ত করে গোদাগাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, শ্রীমন্তপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান মিলন (৫০), মোঃ রানা (৩২), নাফিউল ইসলাম নাহিদ (৪০), আব্দুস সালাম (৪৮), মোমিনুল ইসলাম রওনক (৪৪), সেলিম রেজা (৪৫), ফরহাদ বাদশা (৩৩), মোঃ মাসুদ রানা ট্যারা (৪৫), মোঃ মামুন (৩৩), মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সেলিম (৪৫)।
সরকারি জমি দখল ও দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক কমিটির কাছে চাঁদা দাবি ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে আশঙ্কায় গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টা থেকে বেলা ৩:৩০ মিনিট পর্যন্ত গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে অবস্থান করেন।
থানার জিডি ও ভুক্তভোগীদের দেয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী কমিটির কাছ থেকে অভিযুক্তরা যে পন্থায় অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতো; ঠিক একই পন্থায় বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির কাছেও চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে না পারলে বর্তশান আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে পূর্ববর্তী কমিটিকে আবারো চেয়ারে বসানো হবে বলে হুমকি দেয়। নয় সদস্য বিশিষ্ট বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হলেন গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে আছেন সাবিয়ার রহমান মিলন। পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম, সম্পাদক ও সাংগঠণিক সম্পাদক ছিলেন পর্যায়ক্রমে রফিকুল ইসলাম ভাদল ও সোহেল রানা। অভিযুক্তদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তিরাই কোন রাজনীতি না করলেও বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ দলিল লেখক সমিতির। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি’২০২৬ ইং তারিখে উপরোক্ত বিবাদীরা গোদাগাড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে সরকারী ফাঁকা জায়গা দখলের জন্য পায়তারা শুরু করে। রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনের দেয়াল ঘেঁষে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফাঁকা জায়গাটি দখলপূর্বক সেখানে একটি চেম্বার ও রেস্টুরেন্ট করার অপচেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা। উক্তস্থানে কোন চেম্বার ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করলে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে আসা সেবাগ্রহীতার পড়তে পারেন নানাজটিলতায়। এছাড়াও দালালদের চক্ররে পরারও সম্ভাবনা আছে। তাই সার্বিকদিক বিবেচনায় বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অভিযুক্তদের সেই অপচেষ্টাকে প্রতিহত করেন। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকিসহ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকলের সামনেই উক্ত সরকারি জায়গাটি দখল করবে বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। তারই প্রেক্ষিতে বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে পাহারায় বসেন। পুলিশের উপস্থিতির কারণে অফিযুক্তরা সেখানে না গেলেও আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ দেখে নেবার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনসহ কমিটির সদস্যরা।
অভিযুক্তদের চাঁদাদাবি, জমি দখলের পাঢ়তারা আর প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকির জন্য ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা। অভিযুক্তদের এমন এহেন কর্মকান্ড সংক্রান্ত বিষয়াবলী ঐ আসনের সাংসদ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অবগত আছেন বলে জানান আহ্বায়ক গিয়াস। তিনি আরো জানান, পূর্ববর্তী সমিতির নেতা ও সদস্যরা প্রতিটি দলিলে তিন থেকে চারশ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ নিতো। প্রতিমাসে প্রায় হাজারখানেক দলিলের রেজিষ্ট্রি কাজ সম্পন্ন হতো। পূর্ববর্তীরা অনেককেই নিঢ়মিত চাঁদা দিয়ে এই অবৈধ উপার্জন করতো। নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠণের পর সেই অবৈধ উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওযায় অসাধুচক্র সেটি মেনে নিতে পারছেনা। তাই অভিযুক্তরা আমাদেরকে কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়ে পূর্ববর্তী কমিটির লোকজনকে পুণরায় এখানে আনতে চাচ্ছে।
জানতে চাইলে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ হাসান বাসির লিখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এসিল্যান্ড স্যারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তাদের সাথে আলাপপূর্বক বিবদমান বিষয়গুলোর একটি সমাধানের চেষ্টা করছি। জায়গাটি রোডস্ এন্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্টের। তাই কেউ চাইলেও সেটি দখল করা সম্ভবনা।