রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা দিন দিন জোরদার হচ্ছে। নাগরিক ভোগান্তির দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সম্ভাব্য প্রার্থী অমিত ঘোষ বিকির নাম। এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা, সড়ক সংস্কারের ধীরগতি, মশার উপদ্রব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতিতে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে ২২ নম্বর ওয়ার্ড। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা; নোংরা পরিবেশে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। ওয়ার্ডের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা এমন কাউন্সিলর চাই, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থাকবেন। সমস্যা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।” এক তরুণ ভোটার জানান, “ওয়ার্ডকে আধুনিক করতে হলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা ও সেবার স্বচ্ছতা এখন সময়ের দাবি। অমিত ঘোষ বিকি এসব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন, তাই আমরা আশাবাদী।” ‘ডিজিটাল ওয়ার্ড’ গড়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে অমিত ঘোষ বিকি বলেন, “২২ নম্বর ওয়ার্ড আমার জন্ম-শৈশবের এলাকা। এই এলাকার প্রতিটি রাস্তা ও মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। নির্বাচিত হলে প্রথম দিন থেকেই সমস্যাগুলোর তালিকা করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ শুরু করব।” তিনি জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন, অভিযোগের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধান পাবেন। একটি হেল্পলাইন নম্বর ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থাকবে, যেখানে প্রতিটি আবেদন নথিভুক্ত ও উন্মুক্ত থাকবে—যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। “উন্নয়নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহিতা। উন্নয়ন বাজেট, প্রকল্পের অগ্রগতি—সব তথ্য নাগরিকদের সামনে উন্মুক্ত রাখা হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর উন্মুক্ত নাগরিক সভা করব,”—যোগ করেন তিনি। তরুণদের সম্পৃক্ততায় স্মার্ট ওয়ার্ড অমিত ঘোষ বিকি জানান, তরুণদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে, যারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত থাকবে।
প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি স্মার্ট ও আধুনিক ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য তার। মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হলে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।” ওয়ার্ডে খেলাধুলার মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কার, প্রয়োজনে পরিত্যক্ত জায়গা খেলার উপযোগী করে তোলা, নিয়মিত ফুটবল-ক্রিকেট-ভলিবল টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং স্কুল-কলেজভিত্তিক আন্তঃওয়ার্ড ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পাশাপাশি মাদকবিরোধী সেমিনার, লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় তরুণদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামাজিক পরিবেশ ইতিবাচক হবে এবং অপরাধ প্রবণতাও কমবে। এনআইডি সংশোধনে সহায়তা উদ্যোগ ওয়ার্ডবাসীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান অমিত ঘোষ বিকি। অনেক নাগরিকের এনআইডিতে অন্য ওয়ার্ডের ঠিকানা বহাল থাকায় ভোটার তালিকা ও সরকারি সেবা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, “সঠিক ওয়ার্ডে ভোটার নিবন্ধন নিশ্চিত করা নাগরিক অধিকার। যারা এনআইডিতে ওয়ার্ড পরিবর্তন করতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।” নির্বাচনী পরিবেশে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে পরিবর্তনের যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে স্থানীয় রাজনীতিতে।
শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়েই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের নেতৃত্ব। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অমিত ঘোষ বিকির প্রার্থীতা ঘিরেই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে রাসিকের ২২ নং ওয়ার্ডে।