পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। আত্মগোপনে থাকা অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এলাকায় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী অবৈধভাবে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, পাসপোর্ট না থাকায় অনেকে কুমিল্লা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন নেতাকর্মী দেশে ফিরেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারত থেকে ফেরত কিছু নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী স্থানীয় প্রভাবশালীদের অর্থায়নে দেশে প্রবেশ করেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ও গতিবিধির উপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন প্রথমে ভারতে এবং পরে দুবাইয়ে অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার তিনি দেশে ফিরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিজ এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে তিনি কীভাবে দেশে ফিরেছেন তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের আশ্রয় দিচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
লাকসাম উপজেলা ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ গোপনে বিভিন্ন স্থানে তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁরা খবর পাচ্ছেন। তবে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের আশ্রয় দিচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
লাকসাম উপজেলা ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ গোপনে বিভিন্ন স্থানে তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁরা খবর পাচ্ছেন। তবে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোস্তাক মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কারও সম্পর্ক আছে কি না সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে দলীয়ভাবে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনকে প্রশ্রয় দেওয়ার নির্দেশনা বিএনপির নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ও কুমিল্লা জেলার প্রধান সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাইয়ের ঘটনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে বিবির বাজার স্থলবন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে কেউ প্রবেশ করতে পারে না এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তাদের প্রচারণাও অনুমোদিত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্ত দিয়ে নেতাকর্মীরা দেশে প্রবেশ করছে- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি মূলত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব।
এ বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান। সূত্র- এনপিবি