বধূ বরণ নয়, এখন শেষ বিদায়

শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বধূ বরণ নয়, এখন শেষ বিদায়

বিয়ের আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল বাড়ি। নববধূকে বরণ করতে অপেক্ষায় ছিলেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার মর্মান্তিক খবর মুহূর্তেই বদলে দিয়েছে সবকিছু। এখন সেই বাড়িতেই শোকের ছায়া, শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় স্বজনরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই নববধূকে নিয়ে মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর স্বজনদের। গ্রামবাসীরাও অপেক্ষায় ছিলেন নতুন বড়-বউকে বরণ করার জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবার সকালে গ্রামবাংলার চিরাচরিত নিয়মে নতুন বউকে ঘিরে খাওয়া-দাওয়া, হাসি-আনন্দ আর শিশুদের হৈ-হুল্লোড়ে মুখরিত থাকত বাড়িটি।

কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্ত কেড়ে নেয় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে নব দম্পতি ও তাদের স্বজনদের বহন করা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তেই নিভে যায় বহু স্বপ্ন।দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে মোংলায়, ৪ জনকে কয়রায় এবং মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে।জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এই দুর্ঘটনায় তাঁর দুই ছেলে, এক মেয়ে, পুত্রবধূ এবং চার নাতি নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ এখন বাড়িতে।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বেঁচে থাকা তিন ছেলে, তাদের মা ও অন্যান্য আত্মীয়রা শোকে বাকরুদ্ধ।দুর্ঘটনায় স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।

প্রতিবেশী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন করা হবে।

কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর