দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা এম. এ. তাফসীর হাসানকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) এনসিপির দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. শামসুল মুক্তাদির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাওলানা এম. এ. তাফসীর হাসানকে দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. শামসুল মুক্তাদির বলেন, তাফসীর হাসানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অপরজনের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনগত রাতে বোচাগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এম. এ. তাফসীর হাসান ও দলের সক্রিয় সদস্য মনজুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের বারেয়া এলাকায় সন্তোষ কুমার রায়ের বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্তরা তার ভাই পরিমলকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এ সময় তারা বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র তছনছ করে। বাধা দিতে গেলে সন্তোষ কুমার রায়কে মারধর করা হয় এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা ঘটনাটি টের পেয়ে জড়ো হয়ে মনজুরুল আলমকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরে মনজুরুলকে ছাড়িয়ে নিতে ঘটনাস্থলে আসেন এম. এ. তাফসীর হাসান। তখন স্থানীয়রা তাকেও আটক করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ অভিযানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি লোহার পাইপ, একটি স্টিলের লাঠি (স্পিন্ডল ব্যাটন), কালো রঙের এক জোড়া বুট জুতা, সেনাবাহিনীর পোশাকের অনুরূপ একটি ফুল প্যান্ট, একটি কালো রঙের মিনি ক্যামেরা (মেমোরি কার্ডসহ), একটি মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
পুলিশ আরও জানায়, এর আগেও ওই এলাকায় এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।