শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুরুষ ক্রিকেটারদের ‘হাতি’ আখ্যা রাকসু জিএসের

বাংলাদেশ ক্রিকেটে পুরুষ ক্রিকেটারদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেছেন, পুরুষ ক্রিকেটারদের খেলা বন্ধ হলেই দেশের ক্রিকেটের উপকার হবে। তার দাবি, “২০টা ম্যাচ খেলে ২১টাতে হারা দলকে ন্যূনতম সম্মান দেওয়ারও কোনো দায় নেই।”

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন এই আলোচিত ছাত্রনেতা। একই সঙ্গে পুরুষ ক্রিকেটারদের পেছনে খরচ করা অর্থ মেয়েদের ক্রিকেট দলের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, “আজ যখন বিসিবির একজন পরিচালক উচিত কথা বলেছে, তখনই ভয় দেখানো শুরু-পদত্যাগ না করলে নাকি ক্রিকেট খেলাই বন্ধ! বন্ধ করুক। এই হাতিদের খেলা বন্ধ হলেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের উপকার হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “এই মুহূর্তে এদের সব বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করা হোক। এদের পেছনে যে টাকা ধ্বংস করা হয়, সেই টাকা মেয়েদের ক্রিকেট দলকে দেওয়া হোক।”

দেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থার জন্য মাঠের বাইরের দালাল সিন্ডিকেট এবং মাঠের ভেতরের ব্যর্থ খেলোয়াড়দের দায়ী করে তিনি বলেন, “দেশের ক্রিকেট আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তার জন্য দায়ী মাঠের বাইরের দালাল আর মাঠের ভেতরের অথর্ব কিছু তারকা।”

ভারতের বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন কোয়াবের ভূমিকা নিয়েও। তার ভাষায়, “মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ভারত যখন বাংলাদেশকে প্রকাশ্যে অপমান করল, তখন কোয়াবের ইজ্জত কোথায় ছিল? তখন তো খেলা বন্ধের হুমকি আসেনি, দেশের সম্মান রক্ষায় কোনো ঐক্যও দেখা যায়নি।”

পোস্টের শেষাংশে আরও কড়া ভাষায় তিনি লেখেন, “মিরাজ, মিথুন, শান্তদের এক মাসের বেতন মেয়েদের দুই বছর দিন। বোর্ডের টাকায় বসে খাওয়া, ঘুমানো, ফুটানি আর হার-তারপর আবার হুমকি! খেলা বন্ধের হুমকি দেওয়ার আগে অন্তত দালালি বাদ দিয়ে খেলাটা শিখুন।”

সালাহউদ্দিন আম্মারের এই মন্তব্য ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুরুষ ও নারী ক্রিকেটে ব্যয়-বণ্টন এবং খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনাও জোরালো হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর