রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় জননিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে একটি আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার সদরের প্রায় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা। উপজেলা পরিষদের টিআর খাত থেকে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থে এ কাজ চলমান রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আলিমুদ্দিন মোড় (কলেজ মোড়), ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রবেশ মোড়, ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রবেশ মোড়, ভবানীগঞ্জ জিরো পয়েন্ট, কাঁচা বাজার ও মাছ বাজার, সিএনজি স্ট্যান্ড, গোডাউন মোড়, ব্র্যাক মোড় এবং পৌর ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল।
সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভবানীগঞ্জ পৌরসভার কার্যালয় এবং বাগমারা থানা থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা হবে। এতে করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধী শনাক্ত করা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগের ফলে অপরাধ সংঘটনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে নারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে
বাজার ও যানবাহন স্ট্যান্ড এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দ্রুত উদঘাটন সম্ভব হবে। ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী লিটন মিয়া জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মানসম্মত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘদিন কার্যকরভাবে মনিটরিং করা যায়।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা অপরাধ দমনে একটি কার্যকর প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার ফলে ভবানীগঞ্জ সদর আরও নিরাপদ হবে। ভবানীগঞ্জ পৌরসভা এবং তাহেরপুর পৌরসভায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভির পরিধি বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক শামীম রেজার প্রস্তাবনায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি অনুমোদন পায়। বর্তমানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা চালু হলে ভবানীগঞ্জ সদর সত্যিকার অর্থেই একটি নিরাপদ ও নজরদারির আওতাভুক্ত আধুনিক উপজেলা সদর হিসেবে গড়ে উঠবে।