রাজশাহীতে ভোটের প্রচারে শঙ্কা প্রকাশ করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা

বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ভোটের প্রচারে শঙ্কা প্রকাশ করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা

রাজশাহীতে ৬টি আসনের ২৯ জন প্রার্থী তাদের প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৬ জন দলীয় এবং ৩ জন স্বতন্ত্র। জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী রাজশাহী-৩, ৪ ও ৬ আসনে নাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন। আগামীকাল থেকে তারা নির্বাচনের আচরণ বিধি মেনে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

তবে প্রতীক বরাদ্দের সময় বাধা দেওয়ার ঘটনার কারণে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। খোদ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রতীক দিতে বাধা দেয়ার ঘটনা এ শঙ্কার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভা কক্ষে প্রতিক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রার্থীরা এবং তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের সঙ্গে আচরণ বিধি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি রাজশাহী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ (মোটরসাইকেল), রাজশাহী-৫ আসনের ইসফা খায়রুল হক (ঘোড়া) এবং রেজাউল করিমকে (ফুটবল) প্রতীক বরাদ্দ দেন।

রাজশাহী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেনের প্রতীক বরাদ্দের সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু প্রতিবাদ জানান। তিনি মাইক মাইক্রোফোন নিয়ে বলেন, “জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর। তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। তাদের প্রতিক বরাদ্দও দেওয়া যাবে না। জাতীয় পার্টিকে যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওযা হয় তবে রাজশাহীতে জাতীয় নির্বাচন হবে না।’’

জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কার্যক্রম রুখে দেয়ার হুঁশিয়ারী দিয়ে রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারকে সাজু আরও বলেন, ‘‘জুলাই শহীদের রক্ষের বিনিময়ে আপনি আজ ওই চেয়ার পেয়েছেন। আপনি জুলাই শহীদের সঙ্গে বেইমানি করতে পারেন না। আপনি জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিবেন না, দিতে পারেন না।’’

এর জবাবে রিটার্নিং অফিসার আফিয়া আখতার বলেন, “প্রতীক বরাদ্দ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ। এখানে আমরা আইনসম্মত কাজের বাইরে কিছু করতে পারি না। আপনারা লিখিত আবেদন দিন, আমরা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবো।”

বাক বিতণ্ডার পর শেষ পর্যন্ত আফজাল হোসেনকে তার প্রতীক হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রতীক হাতে পাওয়ার পর তিনি সেখানে বেশি সময় না থেকে চলে যান। জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং হুমকিকে তিনি নির্বাচনী প্রচারেও বাধা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাগরিকের অধিকার। তবে প্রশাসনের সামনে যে আচরণ দেখা গেছে তাকে নির্বাচনের প্রচারণা চালানো নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।”

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও রাজশাহী জেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, “আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে প্রার্থীদের ওপর উদ্ধৃত আচরণ লক্ষ্য করেছি। জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তবে এটি একটি মব। আমাদের প্রার্থীরা প্রচারণায় গিয়ে মবের শিকার হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি দলের হাই কমান্ডকে জানানো হবে। তারা সিদ্ধান্ত নিলে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো।”

রাজশাহীতে এই ঘটনায় নির্বাচনী প্রচারণা ও নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পার্টি আশা করছে, নির্বাচনের মাঠে তাদের অংশগ্রহণ বাধাহীনভাবে সম্ভব হবে।

রাজশাহীর ৬টি আসনের প্রার্থী যারা

রাজশাহী-১: শরীফ উদ্দীন (বিএনপি), মুজিবুর রহমান (জামায়াত), আব্দুর রহমান (এবি পার্টি), মির মো. শাহজাহান (গণ অধিকার পরিষদ)

রাজশাহী-২: মিজানুর রহমান মিনু (বিএনপি), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (জামায়াত), মু. সাঈদ নোমান (এবি পার্টি), মোহাম্মদ সামছুল আলম (নাগরিক ঐক্য), মেজবাউল ইসলাম (লেবার পার্টি), সালেহ আহমেদ (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল)

রাজশাহী-৩: শফিকুল হক মিলন (বিএনপি), আবুল কালাম আজাদ (জামায়াত), আফজাল হোসেন (জাতীয় পার্টি), ফজলুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন), সাঈদ পারভেজ (আমজনতা দল)

রাজশাহী-৪: ডি.এম.ডি জিয়াউর রহমান (বিএনপি), আব্দুল বারী সরদার (জামায়াত), ফজলুল হক (জাতীয় পার্টি), তাজুল ইসলাম খান (ইসলামী আন্দোলন)

রাজশাহী-৫: অধ্যাপক নজরুল ইসলাম (বিএনপি), মনজুর রহমান (জামায়াত), রুহুল আমিন (ইসলামী আন্দোলন), আলতাফ হোসেন মোল্লা (বিএসপি), ইসফা খায়রুল হক (স্বতন্ত্র, ঘোড়া), রেজাউল করিম (স্বতন্ত্র, ফুটবল)

রাজশাহী-৬: আবু সাঈদ চাঁদ (বিএনপি), নাজমুল হক (জামায়াত), ইকবাল হোসেন (জাতীয় পার্টি), আব্দুস সালাম সুরুজ (ইসলামী আন্দোলন)।

এই বিভাগের আরো খবর