বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আ. লীগ নেতাদের প্রকাশ্য তৎপরতা

শুক্রবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আ. লীগ নেতাদের প্রকাশ্য তৎপরতা

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের আগমুহূর্তে মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত এসব নেতার অবাধ বিচরণ ও নির্বাচনী সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাহাজ প্রতীকের প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার নির্বাচনী সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন শিবচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও দুইবারের পৌর মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী এবং শিবচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোতা খানসহ আরও কয়েকজন নেতা।

এদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। হঠাৎ করে এসব নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামাকে অনেক ভোটার নির্বাচনের পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন।

জানা গেছে, কামাল জামান মোল্লা শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় গত ২১ জানুয়ারি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর থেকেই তার পক্ষে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য তৎপরতা বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি শিবচর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল লতিফ মোল্লার বাড়িতে অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের এসব নেতার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচলিত আইন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে অভিযুক্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য হেলেন জেরিন খান বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায়—এটা প্রশাসনের দেখা উচিত।”

অন্যদিকে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, “কারা কার পক্ষে প্রচারণা চালাবে, তা ব্যক্তিগত বিষয়। এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কোনো ভাবনা নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের এ ধরনের তৎপরতা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে।

এই বিভাগের আরো খবর