রাজশাহী বিভাগে “অহংকার ও বিদ্রোহে বিএনপির ১১ আসন হাতছাড়া”

রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিভাগে “অহংকার ও বিদ্রোহে বিএনপির ১১ আসন হাতছাড়া”

রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১১টি আসনে বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে গেছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন আসনের সবগুলো এবং পাবনার অর্ধেকের বেশি আসন বিএনপি জিততে পারেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থীদের অহংকার, তৃণমূল নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলা এবং যোগ্য মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে এই পরাজয় ঘটেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সম্পূর্ণ পরাজয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন আসনের বিএনপি প্রার্থী-শাজাহান মিঞা (১), হারুনুর রশীদ (২) ও আমিনুল ইসলাম (৩)-সবারই হার। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর নেতাকর্মীরা নতুন মুখ চেয়েছিলেন, ফলে নির্বাচিত প্রার্থীরা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন।

রাজশাহীতে অহংকার তৃণমূল অবহেলা

রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কার্যত এড়িয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। রাজশাহী-৪ আসনের ডিএমডি জিয়াউর রহমান মনোনয়ন পাওয়ার পর বিতর্কিত আচরণের কারণে সমালোচিত হন, ফলে জয়ের সম্ভাবনা কমে যায়।

জয়পুরহাট পাবনায় বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব

জয়পুরহাট-১ এবং পাবনা-৩ ও ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হেরে যায় দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে। বিশেষত জয়পুরহাটে সাবেকুন নাহার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় বিএনপি প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ৯ হাজার ৮৮৩ ভোটে হেরে যান।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পরাজয়

নওগাঁ-২, সিরাজগঞ্জ-৪ এবং পাবনার কিছু আসনেও বিএনপি প্রার্থী সমীকরণে পিছিয়ে পড়েন। যদিও কিছু আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান ছিল, কিন্তু প্রার্থীদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং দলের মনোবলহীনতা হারের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, ‘পরাজয়ের কারণগুলো তদন্ত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা খুশি। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে।’

রাজশাহী বিভাগের ফলাফলে বিএনপি দেখেছে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকার প্রভাব, তবে প্রার্থীদের অহংকার, তৃণমূলের অংশগ্রহণের অভাব এবং মনোনয়ন বাছাইয়ের ত্রুটি পার্থক্য সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর