দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হওয়ার পর সেই প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩১ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন স্বামী। তিন সন্তানের জননী তারাফুল বেগমকে (৪৮) ধর্মীয় রীতিতে মৌখিক তালাক দিয়েছেন তার স্বামী সইবুর রহমান (৫৬)।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শিবগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শেখটোলা মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর তারাফুল বেগম ও সইবুর রহমানের পৃথক বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে তারাফুল বেগম দাবি করেন, কেবল নিজের পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণেই তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের মধ্যে অন্য কোনো পারিবারিক বিরোধ বা সাম্প্রতিক ঝগড়া ছিল না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তিনি পূর্বেও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান এবং ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চলতে চান বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সইবুর রহমান নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করে বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয়ের পর শুক্রবার বাড়িতে উৎসব করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। মনের অবস্থা খারাপ থাকায় রাগের মাথায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে তিনি এ ঘটনাকে অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারটি দরিদ্র। দম্পতির দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং তাঁদের নাতি-নাতনি রয়েছে। একমাত্র ছেলে বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকেন। বর্তমানে তারাফুল বেগম স্বামীর বাড়ির অদূরে ননদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি শিবগঞ্জের পনেরশিয়া গ্রামের লোকমান আলীর মেয়ে।

স্থানীয় আরেকটি সূত্রের দাবি, বাড়িতে রাজনৈতিক উৎসব নয়, অসুস্থ নাতির জন্য দোয়া উপলক্ষে কয়েকজন ফকিরকে খাবার দেওয়া হয়েছিল।

ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, তারাফুল বেগম আগে জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব তসিকুল ইসলাম এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বাবুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জামায়াত নেতার ভাষ্য, রাগের মাথায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, লোকমুখে ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি পারিবারিক। এ পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর