রাজশাহীর বাঘায় আবর্জনার স্তুপ, কুদাল হাতে যুবনেতা সুমন। 

বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর বাঘায় আবর্জনার স্তুপ, কুদাল হাতে যুবনেতা সুমন। 

কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী—এমন দৃষ্টান্তই স্থাপন করলেন স্থানীয় যুবদল নেতা ও রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান সুমন। এলাকার স্তূপীকৃত আবর্জনা পরিষ্কারে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো ফল না মেলায়, শেষমেশ নিজেই কোমর বেঁধে মাঠে নামলেন তিনি। বুধবার ( ১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঘা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পানির টাংকির সামনের পচা আবর্জনার ভাগাড় পরিষ্কারে তার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ এখন পুরো এলাকায় টক অফ দ্য টাউন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাওপাড়া পানির টাংকির সামনের স্থানটি দীর্ঘ দিন ধরে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। উৎকট গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছিল এলাকাবাসীর। সেই সাথে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কুকুরের উপদ্রব। এই সময় টাতে রাস্তাটি দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারতোনা কুকুরের ভয়ে। যুবদল নেতা সুমন এই সমস্যা সমাধানে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং স্মারকলিপি প্রদান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে এই সমস্যা সমাধানে আলোচনা করে। এছাড়াও নিজ ফেসবুকে একাধিক বার পোস্ট করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু দফতরগুলোর শুধু আশ্বাস ছাড়া বাস্তবে কোনো কাজ করেননি। পরে যুবদল নেতা সুমন যারা এই স্থানে আবর্জনা ফেলতেন তাদের স্ব শরীরে গিয়ে এর ক্ষতিকারক বিষয়গুলো তুলে ধরে বুঝিয়ে বারণ করেন।

এদিকে, প্রশাসনের উদাসীনতা দেখে সুমন আর বসে থাকেননি। আজ বিকেলে নিজের অনুসারী ও সাধারণ কর্মী সহ এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে বেলচা, কুদাল আর ব্লিচিং পাউডার নিয়ে নেমে পড়েন রাস্তায়। কয়েক ঘণ্টার অক্লান্ত পরিশ্রমে পরিষ্কার করা হয় বিশাল সেই ডাস্টবিন এলাকাটি। এরপর বালু দিয়ে স্থানটি ভোড়াট করে।

এ বিষয়ে যুবদল নেতা সুমন বলেন, নেতা নই -সেবক আমি। “জনগণের সেবার রাজনীতি করি। প্রশাসন কাজ করছে না বলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। মানুষ দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, এটা দেখে ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। তাই নিজেই দায়িত্ব কাধে তুলে নিলাম।”

সুমনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ পথচারী ও এলাকাবাসী। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “আমরা অনেক বড় বড় নেতার ভাষণ শুনেছি, কিন্তু সুমনের মতো নিজে ময়লা পরিষ্কার করতে কাউকে দেখিনি। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

সচেতন মহল এর মতে, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় একটি কাজ করেছে সুমন। কোন দ্বিধা ছাড়াই এবং সকল প্রকার অহংকার ভুলে নিজেই নামলেন ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারে।দফায় দফায় জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। এটি খুব দুঃখজনক। রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য উদাহরণ তৈরী করলেন যুবনেতা সুমন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরিষ্কার অভিযানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সুমনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, প্রতিটা রাজনৈতিক নেতা যদি এভাবে কাজের মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়াতেন, তবে এলাকার চেহারা বদলে যেত।

এই বিভাগের আরো খবর