৯% ঘুষ দাবি: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে অপসারণে আল্টিমেটাম

বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৯% ঘুষ দাবি: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে অপসারণে আল্টিমেটাম

কাজ দেওয়ার জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। এ ঘটনায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি)-এর উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে অপসারণে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’।

বুধবার সকালে নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিন সকালে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন ভিসি।

জানা গেছে, রামেবির স্থায়ী ক্যাম্পাসে অবকাঠামো নির্মাণে সম্প্রতি ছয়টি প্যাকেজে মোট ৭৭৭ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। অভিযোগ উঠেছে, এসব কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন দাবি করা হয়েছে।

জেনিট কর্পোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান টিপু দাবি করেন, দরপত্রের মাধ্যমে তাকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দেন ভিসি। বিনিময়ে ৯ শতাংশ কমিশন চাওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই রাজশাহীতে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ প্রেক্ষাপটে বেলা সাড়ে ১১টায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, “আগামী তিন দিনের মধ্যে ভিসি জাওয়াদুল হককে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় তার দপ্তর ঘেরাও করা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভিসির বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার ছাড়াই গাছ কাটা ও নামমাত্র মূল্যে বিক্রি, এখন আবার ৭৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পে কমিশন দাবি- এসবের জবাব তাকে দিতে হবে।”

কর্মসূচিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন অভিযোগ করে বলেন, “অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি দুর্নীতি করেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়েও কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন।” তিনি দ্রুত তদন্ত ও অপসারণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, আসলাম-উদ-দৌলা, সালাহউদ্দিন মিন্টু ও ব্যবসায়ী নেতা শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে, সকালেই নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, “যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, তারা এখন পর্যন্ত রামেবির কোনো কাজই করেনি। তাদের কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি দাবি করেন, সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং তাকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র চলছে।

অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি এখন রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর