“সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদ নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি”—ফেসবুক লাইভে হাসনাত

সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদ নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি”—ফেসবুক লাইভে হাসনাত

সংসদে ক্ষমতাসীন দলের ভূমিকা ও কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনা করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে।

রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে প্রায় ৫২ মিনিটের লাইভে এসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পুরো লাইভজুড়ে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এই সংসদে পাস হওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন অন্যতম। তবে এই প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপনই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, জনগণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এসব বিষয়ে অন্তত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।

অর্থনৈতিক খাতের অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সংসদে প্রশ্নোত্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দেশের শীর্ষ ২০টি ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তা প্রদান করেন। ওই তালিকার মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য আইন পাস করা হয়েছে—এটি দেশের জন্য একটি কালো অধ্যায়।”

তিনি দাবি করেন, জুলাইয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার। কিন্তু বাস্তবে সেই সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তার ভাষায়, “সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রায়ই আত্মতুষ্টি তৈরি করে—এটি ভালো কিছুর বার্তা দেয় না।”

দলীয় রাজনীতি ও সংসদ সদস্যদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্য সরকারের মন্ত্রীদের বিরক্ত করতে চান না, কারণ এতে নিজেদের এলাকার উন্নয়ন বাজেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লাইভে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রশাসনিক বাধা তাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, “আমার এলাকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিতে চাইলে দিন, প্রশাসনকে সহযোগিতা না করতে বললেও সমস্যা নেই—আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের পাশে আছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই বিভাগের আরো খবর