রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাঘায় কলেজ ছাত্র হৃদয়কে পিটিয়ে হত্যা

এম ইসলাম দিলদার,বাঘা,রাজশাহীঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে মেহগনি গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে হাতুরী ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রিদওয়ান হৃদয়(২০) নামে এক কলেজ ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। রিদওয়ান হৃদয় বাঘা শাহদৌল্লাহ সরকারী কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বুধবার (১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পাকুড়িয়া (কলিগ্রাম) এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত হৃদয় ছাড়াও পরিবারের আরও ৫ জন আহত হয়েছে।নিহত হৃদয়ের ছোট ভাই সাব্বির গুরুতর হওয়াতে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।বাকী ৪জন বাঘা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্স এর চিকিৎসা নিয়েছে। ঐদিন দিবাগত রাতেই নিহতের বাবা দীন মোহাম্মদ(দুখু)বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামী করে বাঘা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা সূত্রে মামলা নম্বর০২ তারিখ ২জুলাই। এই ঘটনায় থানায় এজাহারভুক্ত নামীয় সাদেক আলী (৬৫), রুমিয়া বেগম(৫৫),তাজমিরা বেগম(২৫) ও কল্পনা খাতুন(৩২) কে পুলিশ আটক করেছে।

এ বিষয়ে পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিল সাইফুল ইসলাম টগর বলেন, উপজেলার পাকুড়িয়া (কলিগ্রাম) গ্রামের দ্বীনমোহাম্মদ (দুখু)ছেলে রিদওয়ান হৃদয় (২০) নিজ বাড়ির মেহগনি গাছের ডাল কাটছিল। এ সময় বাড়ির পাশের রকসেদ আলীর ছেলে সাদেক আলী (৬৫) ওই গাছটি তার জমির উপর দাবি করে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক- বিতর্ক শুরু হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়,ঘটনার এক পর্যায়ে সাদেক আলী, তার ছেলে সুজন আলী, স্ত্রী রুমিয়া বেগম, ছেলে বউ তাজমিরা বেগম, কল্পনা খাতুন, ফরিদ উদ্দিনসহ আরো অনেকে দলবদ্ধভাবে হাতুরী ও লোহার রড-লাঠি দিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এই হামলায় দ্বীন-মোহাম্মদ দুখু, তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম, ছেলে রিদওয়ান হৃদয়, সাব্বির আহম্মেদ, মেয়ে শারমিন খাতুন জখম ও আহত হয়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদের মধ্যে হৃদয়ের অবস্থা গুরুতর হলে তাৎক্ষনিক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসাপাতালে স্থানান্তর করে। হৃদয়কে মাইক্রোতে করে ঢাকা রওনা হলে পথেই মৃত্যু হয়।
হৃদয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাদেক আলীসহ ৫ জনকে আটক করে।
এ বিষয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর পরই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। লাশ তার বাড়ি থেকে থানায় এনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। ৫জনকে আটক করা হয় বাকীদের গ্রেফতারি প্রক্রিয়া চলছে।

এই বিভাগের আরো খবর