নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা, হামলার দিন নাটোরেই ছিলেন না সন্দেহভাজন নিয়াজ

, ,

নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা, হামলার দিন নাটোরেই ছিলেন না সন্দেহভাজন নিয়াজ




 

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল হত্যার ঘটনায় তার বাবা সরাসরি দুইজন কে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছিলেন গত ২৫ অক্টোবর। সেময় নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম মিস্ত্রি জানিয়েছিলেন, ১৪ অক্টোবর রাত ৯ টার দিকে তার ছেলের উপর গুরুদাসপুর উপজেলার নয়া বাজার এলাকার হাদার ছেলে হাবীব এবং একই এলাকার আলাল উদ্দিনের ছেলে ইফরান নিয়াজ হামলা চালায়। তারা সবুজ রঙ এর হামলার সময় সবুজ বা নীল এক রঙ্গের মোটরসাইকেলে এসে হামলা করে। নিহতদের শাকিলের বাবা রবিউল করিম মিস্ত্রির তথ্য অনুযায়ী এই দুই আসামীকেও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

তবে অনুসন্ধানী তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। হামলার সময় ইফরান নিয়াজ নাটোরেই ছিলেন না। তিনি হামলার কয়েম দিন আগে থেকেই রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। ইফরান নিয়াজ গত মঙলবার সকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় ইফরান নিয়াজ দাবি করেন ছাত্রদল নেতা শাকিলের উপর হামলার ঘটনার সময় (১৪ অক্টোবর রাত ৯ টা) তিনি রাজশাহীতে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। ভিডিও বার্তায় বলেন, “হামলায় দিন তিনি গুরুদাসপুরে অবস্থান না করলেও তাকে পরিকল্পিত ভাবে ফাসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। আমি ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আমার স্ত্রী আগে থেকেই রাজশাহীর ভদ্রা বাসায় থাকি। হামলার দিন রাত ৯ টার সময় আমার এলাকার বন্ধু ও অগ্রনী ব্যাংক নাটোর শাখার অফিসার ক্যাশ সাদ্দাম হোসেনের সাথে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সামনে অবস্থান করছিলাম। পরে সেখান থেকে মালোপাড়া দিয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট হয়ে আলুপট্রি মোড়ের কেএফসি রেস্টুরেন্টে যায়। রাত ১০ টা ০৬ মিনিটে কেএফসিতে অর্ডার করা খাবারের মূল্য সাদ্দাম হোসেনের মেঘনা ব্যাংকের কার্ড দিয়ে পরিশোধ করা হয়। রাত ১০ টা ১০ মিনিটের দিকে আমি ও আমার বন্ধু কেএফসিতে থেকে বের হয়ে আবারো সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে যায়। সেখানে রোজ পুষ্প বিতানে ২০ মিনিট অবস্থান করে পুনরায় কেএফসিতে যায়। সেখানে অর্ডার করা খাবার খেয়ে ১০ টা ৫০ মিনিটের দিকে ভদ্রায় বাসায় চলে যায়। শাকিল ২৬ অক্টোবর মারা গেলেও হঠাৎ করে ২৫ অক্টোবর থেকে তার নাম জড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশ বেশ কয়েকবার আমার গ্রামের বাড়ি, শহরের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়েছে। আমি হত্যাকান্ডে জড়িত না থাকলেও মূল আসামীদের বাচাতে আমাদের মত নির্দোষ ব্যক্তিদের পরিকল্পিত ভাবে ফাসানো হচ্ছে”।

১৪ অক্টোবর রাত ৯ টা থেকে রাত ১০ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহীতে একসাথে অবস্থান করার কথা জানান অগ্রনী ব্যাংকের নাটোর শাখার অফিসার ক্যাশ সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, “আমি একটা কাজে ১৪ অক্টোবর রাজশাহী যায়। নিয়াজ আগে থেকেই রাজশাহীতে ছিল। সেদিন রাত ৯ টার দিকে আমরা রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সামনে দেখা করি। পরে সেখান থেকে রাজশাহীর আলুপট্টি মোড়ে অবস্থিত কেএফসিতে যায়। রাত ১০ টা ০৬ মিনিটে আমার মেঘনা ব্যাংকের কার্ড দিয়ে কেএফসিতে খাবারের মূল্য পরিশোধ করি। রাত ১০ টা ১০ মিনিটের দিকে কেএফসি থেকে বের হয়ে আমি ও আর নিয়াজ বাজার জিরো পয়েন্টে যায়। সেখানে রোজ পুষ্প বিতানে ২০ মিনিট অবস্থান করে পুনরায় কেএফসিতে আসি। সেখানে অর্ডার করা খাবার খেয়ে ১০ টা ৫০ মিনিটে আমরা যে যার গন্তব্যে চলে যায়। কেএফসির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই সবাই নিশ্চিত হতে পারবে”।

এবিষয়ে কেএফসির রাজশাহী শাখায় যোগাযোগ করলে তারা জানান, সিসি টিভির ফুটেজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কাউকে দেয়ার নিয়ম নেই। তবে বিল পেমেন্টের বিষয়ে তারা নিশ্চিত করেন। তারা কার্ড থেকে বিল পেয়েছেন বলে জানান।
শাকিলের উপর হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরাও হামকারী দুজন কে ছিল তা শনাক্ত করতে পারেন নি বলে জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারী একজন হেলমেট এবং অনুজন মাস্ক পরে ছিল। যে কারণে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় নি।

নাটোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ৩ জন সন্দহভাজন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম মিস্ত্রির শনাক্ত অনুযায়ী হাবিব ও ইফরান নিয়াজকেও গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ইফরান নিয়াজ রাজশাহীতে অবস্থান করছিল এমন দাবি আমলে হচ্ছে কিনা এব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হন নি এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এব্যাপারে কোন বলব না।

গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। এ সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) তিনি মারা যান। এঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু সহ ৩ জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরো খবর