রবিবার, ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মুসলমানের পারস্পরিক অধিকার

ডেস্ক নিউজ : হুকুকুল ইবাদ তথা বান্দার হক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। যার নজির অন্য কোনো ধর্মে নেই। এক মুসলমানের জিম্মায় আরেক মুসলমানের অনেক হক অবধারিত। অন্যতম সাত হক বিশেষভাবে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। বারা ইবনে আজেব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন; রোগীর সেবা করা, জানাজার সঙ্গে যাওয়া, হাঁচিদাতার জন্য দোয়া করা, দুর্বলের সাহায্য করা, মজলুমের সহযোগিতা করা, সালামের প্রসার করা এবং কসমকারীর কসম পূর্ণ করা। (বুখারি, হাদিস : ৬২৩৫)

একরোগীর সেবা করা

কেউ অসুস্থ হলে পরিদর্শনে যাওয়া, তার খোঁজখবর নেওয়া, দেখভাল করা, উত্তম চিকিৎসা ও নিরাময়ের ব্যবস্থা করা, সাহস জোগানো রোগীর সেবার অন্তর্ভুক্ত। রোগীর সেবা নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। রোগী পরিদর্শনকারী জান্নাতের বাগানে অবস্থান করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখতে যায় সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত জান্নাতের ফলমূলে (বাগানে) অবস্থান করে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৩১৮)

দুইজানাজার সঙ্গে যাওয়া

জানাজার সঙ্গে যাওয়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ আদায় করা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, তার জন্য এক ‘কিরাত’। আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে, তার জন্য দুই ‘কিরাত’। জিজ্ঞেস করা হলো, দুই কিরাত কী? তিনি বলেন, বিশাল পর্বত সমতুল্য (সওয়াব)। (মুসলিম, হাদিস : ১৩২৫)

তিনহাঁচিদাতার জন্য দোয়া করা

ঠাণ্ডাজনিত হাঁচি ছাড়া স্বাভাবিক হাঁচি দ্বারা অনেক রোগ-ব্যাধি দূর হয়। তাই স্বাভাবিক হাঁচির পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হয়। যে ব্যক্তি হাঁচিতাদার মুখ থেকে আলহামদুলিল্লাহ শুনবে, তার জন্য হাঁচিদাতার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন) বলা ওয়াজিব, ওয়াজিব আলাল কিফায়াহ। দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার হাঁচি দেওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বললে তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা সুন্নত এবং সওয়াব লাভের মাধ্যম। তবে হাঁচিদাতা আলহামদুলিল্লাহ না বললে তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা ওয়াজিব বা সুন্নত নয়। হাঁচিদাতা ইয়ারহামুকাল্লাহ শুনতে পেলে ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ পড়বে। (বুখারি, হাদিস : ৬২২৪)

চার  পাঁচদুর্বল  মজলুমের সহযোগিতা করা

দুর্বল ও মজলুমের সহযোগিতা করা মুসলমানের হক। নবীজি (সা.) বলেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকবে আল্লাহ ততক্ষণ সেই বান্দার সহায় থাকবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

ছয়সালামের প্রসার করা

এক মুসলমান আরেক মুসলমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পূর্ণ সালাম দেবে, অর্থাৎ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ’ আল্লাহ আপনার প্রতি শান্তি, রহমত ও বরকত নাজিল করুন। শুধু ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললেও সালাম হয়ে যাবে। তবে পূর্ণ সালাম বললে বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম। তিনি তার জবাব দিলেন। লোকটি বসল। নবীজি (সা.) বলেন ১০ নেকি। এরপর আরেকজন এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। নবীজি (সা.) অনুরূপ জবাব দেন। লোকটি বসল। তিনি বলেন ২০ নেকি। অতঃপর আরেকজন এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। নবীজি (সা.) তারও জবাব দিলেন। লোকটি বসল। তিনি বলেন ৩০ নেকি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৯৫)

সাত. কসমকারীর কসম পূর্ণ করা

কসমকারীর কসম পূরণ করা। অর্থাৎ আল্লাহর কসম বা দোহাই দিয়ে কেউ কিছু বললে বা দাবি করলে তা পূরণে সহায়তা করা।

আল্লাহ আমাদের এ হকগুলো আদায় করার তাওফিক দান করুন।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আম্বরশাহ আল ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা

এই বিভাগের আরো খবর