নিকাব পরে জাল ভোট দেওয়া শরীয়তে হারাম, পরিচয় নিশ্চিত করতে চেহারা খোলা জায়েজ

মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিকাব পরে জাল ভোট দেওয়া শরীয়তে হারাম, পরিচয় নিশ্চিত করতে চেহারা খোলা জায়েজ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিকাব ও বোরকা ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়ার আশঙ্কা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে নিকাব বা বোরকা পরে পুরো মুখ ঢেকে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা কখনোই বৈধ হতে পারে না। বরং স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের স্বার্থে নারী পোলিং কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করে ভোট দেওয়াই পরিপূর্ণ শরিয়তসম্মত ও নিঃসন্দেহে জায়েজ। ইসলামী স্কলারগণের মতে, কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে প্রমাণিত যে, প্রয়োজনে নারীদের চেহারা খোলা যায়। কোরআনে বলা হয়েছে, নারীরা যেন শালীনতা বজায় রাখে এবং যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায়, তা ছাড়া সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে (সূরা আন-নূর: ৩১)। বহু সাহাবি ও তাফসিরকার এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুখ ও হাতের কব্জি প্রকাশ্য থাকার অনুমতি দিয়েছেন। নারীদের সামনে চেহারা খোলা রাখা এবং কোনো প্রয়োজন বশত পুরুষের সামনেও মুখ খোলা রাখার অনুমতি রয়েছে। নবী সা. হজের সফরে পুরুষের কাফেলার সামনে নিজ পরিবারের নারীদের আড়াল করে রেখেছেন। কাফেলা চলে গেলে চেহারা খোলা রাখার হুকুম করেন। এ ছাড়া শুধু হজ ও উমরার সময় ইহরাম অবস্থায় নারীদের নিজের লোকজন যেন হারিয়ে না ফেলে বিশেষ ভাবে সে জন্য নারীদের চেহারায় স্পর্শ করা নিকাব নিষিদ্ধ বলে সহিহ হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইহরাম অবস্থায় কোনো নারী নিকাব পরবে না (সহিহ বুখারি)। বাস্তবে সৌদি আরবে হজ ও উমরার সময় নারী হাজীদের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য নারী নিরাপত্তাকর্মীরা মুখমণ্ডল দেখে মিলিয়ে থাকেন। এটিকে কোনোভাবেই পর্দাবিরোধী মনে করা হয় না।

ফিকহবিদরা বলছেন, ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো। প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ বিষয়ও সাময়িকভাবে বৈধ হয়ে যায়। ভুয়া ভোট দেওয়া ইসলামে আমানতের খেয়ানত, কবিরা গোনাহ। অন্যের অধিকার হরণ ও বড় ধরনের হারাম কাজ হিসেবে বিবেচিত। তাই এই ফিতনা ঠেকাতে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মুখ খুলে ভোট দেওয়া শুধু বৈধই নয় বরং প্রয়োজনীয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট দেওয়া আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত ও দায়িত্ব। বিচার ও সাক্ষ্যের ক্ষেত্রেও ইসলামী ফিকহে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জরুরি লোকেদের জন্য নারীর মুখ দেখা বৈধ বলে উল্লেখ রয়েছে। সেই যুক্তিতে ভোটের সময় নারী পোলিং কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করা ইসলামের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তারা সর্তক করে বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে যদি নিকাব বা বোরকার আড়ালে ভুয়া ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তা ইসলামের নামে বড় ধরনের অন্যায় হবে। এতে একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুভূতিও অপব্যবহার হবে।

নির্বাচন কমিশনের উচিত ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে নারী পোলিং কর্মকর্তার মাধ্যমে মুখমণ্ডল মিলিয়ে পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা। প্রয়োজনে মহিলা এজেন্টদের সাহায্য নিয়ে হলেও এটি নিশ্চিত করতে হবে। এতে ধর্মীয় মূল্যবোধও রক্ষা পাবে, আবার ভুয়া ভোটের আশঙ্কাও কমবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর