সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তৃতীয় কর্মদিবসে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ প্রথম অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্বের টানে সরকারি ছুটির দিন শনিবার সকালেও ছুটে যান অফিসে।
কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মো. তারেক, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের বলেন, কার্যালয়ের প্রধান ভবনে প্রবেশের আগে প্রচলিত রীতিনীতির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর দিকে তার দৃষ্টি পড়ে।
ওই কর্মচারীদের মধ্যে ছিলেন অফিস সহকারী, মালি ও ড্রাইভার—যাদের কেউ কেউ তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় থেকে কর্মরত। নিরাপত্তা ও প্রটোকলজনিত কারণে তারা নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করছিলেন। এত বছর পর প্রধানমন্ত্রী তাদের চিনতে পারবেন কি না—এমন সংশয়ও কাজ করছিল তাদের মনে।
হঠাৎই দূর থেকে ভেসে আসে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, ‘তুই নূর না?’—আর তাতেই ভেঙে যায় আনুষ্ঠানিক পরিবেশের আবহ।
নূরুল আমিনসহ অন্যরা এগিয়ে আসেন। চোখে আনন্দ, মুখে বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি যে তাদের ভুলে যাননি, তা যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেই মুহূর্তে।
রুমন জানান, নূরুল আমিন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ড্রাইভার। একসময় তিনি অফিস সহকারী ছিলেন। ১৭ বছরের ব্যবধানেও তার নাম ও মুখ মনে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ছবি তোলেন।আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ক্ষমতার দূরত্ব পেরিয়ে স্মৃতির এই টানই হয়তো মানুষের প্রতি মানুষের সবচেয়ে বড় সম্মান।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পরও পুরোনো কর্মচারীদের চিনে নেওয়ার ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও তিনি প্রথম কর্মদিবসে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।