রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের পক্ষে কোনো ধরনের সুপারিশ না করার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো মাদক কারবারি বা মাদকসেবী আইনের আওতায় এলে তার পক্ষে কোনো রাজনীতিবিদ কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন সুপারিশ না করেন।
তিনি বলেন, একটি পরিবার ধ্বংসের পাশাপাশি মাদক পুরো সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সভা ও সেমিনার আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইউএনও। এসব কর্মসূচিতে প্রবীণ, গৃহিণী, বাবা-মা, যুবক-যুবতীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এসব কর্মসূচিতে তিনি নিজে এবং পুলিশ কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন বলে জানান।
শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, সন্তানদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেন অযথা বাজারে ঘোরাঘুরি না করে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। ইউএনও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ করতে হবে। একই মোটরসাইকেলে দুইয়ের অধিক কিশোর বা যুবক চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, চুরি-ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ছিনতাই বন্ধ, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ রুহুল আমিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাঃ বাবুল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোসাঃ তারজিনা খাতুন, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল কাদির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা, একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মহিদুল ইসলাম, উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলেটর এম এ মতিন, গ্রাম আদালত ও উপজেলা সমন্বয় কর্মী মোসাঃ লায়লা খাতুন এবং উপজেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মোঃ আল আমিন।
এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ সাইদুর রহমান মন্টু, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ কামরুজ্জামান আয়নাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ রেজাউল করিম, জার্জিস হোসেন সোহেল ও গোলাম মর্তুজা, দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মন্ডল, দুর্গাপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান লাল্টু এবং ১ নম্বর নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজাদ আলী সরদার।
সভা শেষে দুর্গাপুর উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।